↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:৫৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১৪ পি.এম

আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রমাণিত: বিডিআর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার। তিনি বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। তিনি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন। তালুকদার দাবি করেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ২০-২৫ জনের একটি মিছিল পিলখানার ভেতরে প্রবেশ করেছিল এবং বের হওয়ার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল বলে তিনি জানান। এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে তিনি তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও দায় ছিল বলে উল্লেখ করেন এবং জানান এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি পুলিশ, র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও চরম ব্যর্থতা ছিল বলে মন্তব্য করেন।

কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে জানান, তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। তিনি তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, তারা দুটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন, যেখানে সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে এবং কারো কারো ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শোনা হয়েছে। এছাড়া, যারা মূল তদন্তে জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাদের তদন্তের রিপোর্টসহ অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করা হয়েছে।

কমিশন প্রধান আরও বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে এবং উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কেন সেনাবাহিনী অ্যাকশন নিল না। জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার আরও জানান, ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা অপেশাদার ছিল। এছাড়া, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছিলেন, তাদের সঠিক নাম, পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো এবং ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা যেন ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।