↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩ জুন ২০২৬, ৮:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩ জুন ২০২৬, ৪:৩১ এ.এম

কৃষক স্মার্ট কার্ডধারীরা কৃষিঋণে অগ্রাধিকার পাবেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় কৃষক স্মার্ট কার্ডধারী প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকেরা কৃষিঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রণীত ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা-২০২৫’-এর আলোকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিমালার আওতায় কার্ডধারী কৃষকদের জন্য ব্যাংকগুলো ১০ টাকার বিশেষ হিসাব বা অ্যাকাউন্ট খুলবে। একই সঙ্গে পুনঃ অর্থায়ন কর্মসূচির অধীনে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে স্মার্ট কার্ড না থাকা প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকেরা যেন এই কর্মসূচির আওতায় ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাছাড়া সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাতে যেসব প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় ও অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহের হাওরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলার প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৪ বছরে মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। মৎস্যচাষি ও দুগ্ধখামারিরাও এই কার্ডের সুবিধা পাবেন এবং এর মাধ্যমে কৃষকদের কাঠামোগত বঞ্চনার অবসান ঘটাতে চায় বিএনপি সরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের আওতায় একজন কৃষক প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, সরকারি প্রণোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষি বিমাসুবিধা। এছাড়া ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার আগাম তথ্য ও রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শও মিলবে এই কার্ডের মাধ্যমে।

এই কার্ডের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকেরা সরাসরি সার কিনতে পারবেন। পাশাপাশি কৃষকের অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তির কোনো কার্ড থাকলে সেটিও এই ডিজিটাল কার্ডের অধীনে চলে আসবে। তবে এই কার্ডের মাধ্যমে কোন সুবিধাগুলো ঠিক কী পদ্ধতিতে দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।