↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৬ পি.এম

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার অভাব দেখছেন ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত; বাণিজ্য বাড়াতে দ্রুত চুক্তির তাগিদ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এবং শিক্ষা ও কৃষি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জোরালো সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত হারিস বিন ওসমান। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বাণিজ্যিক নীতিমালা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মাঝে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত হারিস বিন ওসমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে এখানে বিনিয়োগের পরিবেশ রয়েছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগ হলো বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতার অভাব। তিনি বলেন, “সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন।” একটি স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্রুনাই থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য বৃদ্ধিতে প্রচারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আয়োজিত বাণিজ্য মেলাগুলোর সঠিক প্রচার বিশ্বজুড়ে হয় না। এ ক্ষেত্রে বিডা, ইপিবি এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে ‘ব্রুনাই-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, ব্রুনাই বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চাল আমদানিতে বিশেষভাবে আগ্রহী। এছাড়া আম ও কাঁঠালের মতো কৃষিপণ্যের জন্য ব্রুনাই একটি বড় বাজার হতে পারে। শিক্ষা খাতেও ব্রুনাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সবশেষে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তাগিদ দেন রাষ্ট্রদূত হারিস বিন ওসমান।