↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ পি.এম

কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ও রাজনৈতিক কোন্দলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। নেতৃত্ব সংকট, রাজনৈতিক দল গঠন এবং কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বর্তমান কমিটি স্থগিত করে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।

সংগঠনটির অন্দরে এই অস্থিরতার শুরু হয় যখন সভাপতি রিফাত রশিদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’তে (এনসিপি) যোগ দেন। অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক অনিয়ম ও কোটি টাকার লুটপাট আড়াল করতেই তড়িঘড়ি করে এই নেতারা রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছেন এবং অবৈধভাবে কমিটি বিলুপ্ত করেছেন।

সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা দাবি করেছেন, “কোটির ওপর একটি অ্যামাউন্ট লুটপাট হয়েছে। এই জবাবদিহিতা এড়াতে এবং রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে তারা অগণতান্ত্রিকভাবে কমিটি ভেঙে দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, আর্থিক অসংলগ্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যসহ শিগগিরই প্রেস ব্রিফিং করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, নবগঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এবং সদ্য বিদায়ী নেতা শাহাদাত হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক না থাকায় কমিটি আর কার্যকর ছিল না, তাই নিয়ম অনুযায়ীই উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে তারা ‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে, সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ও সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা এই ‘পকেট কমিটি’ ও ‘নব্য স্বৈরাচারী’ আচরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলে আন্দোলনের মূল স্পিরিট ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।