দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুতে উদ্বেগ: লক্ষণ ও করণীয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ ‘হাম’-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। শিশুদের উচ্চমাত্রার জ্বর এবং শরীরে র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু শিশুমৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় হামের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, হাম মূলত ‘মিজেলস’ নামক ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি শ্বাসনালি দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে শিশু সহজেই অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। এছাড়া হামের কারণে শরীরে ভিটামিন ‘এ’–এর মজুদ কমে যায়, যা থেকে রাতকানা এমনকি স্থায়ী অন্ধত্বও হতে পারে।
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ১০-১৪ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে তীব্র জ্বর ও কাশির পর মুখ ও কানের পেছন থেকে লালচে ফুসকুড়ি শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। র্যাশ বা দানা ওঠার অন্তত দুই-তিন দিন আগে আক্রান্ত শিশুর মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কোপলিক স্পট) দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীরে র্যাশ দেখা দিলে তাকে অন্তত পাঁচ দিন অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখতে হবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও পানীয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, অনবরত বমি, খিঁচুনি, নিস্তেজ হয়ে পড়া বা চোখের মণি ঘোলা হওয়ার মতো ‘বিপদচিহ্ন’ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।