ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভাঙলে হরমুজ প্রণালিতে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে ভেস্তে যায়, তবে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় এবার ‘ডায়নামিক টার্গেটিং’ কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ইরানের ছোট আক্রমণাত্মক নৌযান, মাইন পাতা জাহাজ এবং অন্যান্য অসমমিতিক সমরাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এসব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করেই ইরান বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
যদিও গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলা বর্তমানে যুদ্ধবিরতির কারণে স্থগিত রয়েছে, তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন বলছে, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং হাজার হাজার ড্রোন এখনো সক্রিয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের সামরিক সম্পদ নতুন স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। সমঝোতা না হলে সেসব নতুন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো হবে।
হামলার তালিকায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তা আহমদ বাহিদির নামও থাকতে পারে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে চাপ দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ১৭টি জাহাজ এবং দুটি বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। এছাড়া ভারত মহাসাগরে আরও সাতটি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কার্যত অবরোধ আরোপ করে অন্তত ৩৩টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও সামরিক অভিযানের সব বিকল্পই খোলা রেখেছে।