চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের দুর্নীতির খোঁজে দুদক: নিয়োগ ও প্রকল্পের নথিপত্র তলব

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত ফাইলসহ নিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পের যাবতীয় নথিপত্র চেয়ে চসিক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ১৬ এপ্রিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তথ্য চাওয়া হয়। এতে বিশেষভাবে চসিকের শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহকারী ও সড়ক পরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষার নথি ও নিয়োগপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিমের মেয়াদে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই অন্তত ৩০০ জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া ২০২২ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পাওয়া ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে প্রকল্পের প্রাক্কলন মূল্য, কার্যাদেশ এবং ঠিকাদারের নাম ও কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। পাশাপাশি চারটি ওয়ার্ডে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পাওয়া ‘মেসার্স পাওয়ার সোর্স’, ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট সার্ভিস’ এবং ‘চান্দগাঁও ক্লিনার্স সার্ভিস’—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সাবেক মেয়রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
চসিকের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দুদকের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি আইন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “দুদককে সব ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করা রেজাউল করিম চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে।