প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান মাহদী আমিনের

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অপপ্রচার রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সর্বোচ্চ জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার এই উপদেষ্টা বলেন, একটি অসাধু চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি মূলত কোনো প্রশ্নফাঁস নয়, বরং সুপরিকল্পিত প্রতারণা। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ইতিমধ্যে এমন চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, এই চক্রটি পরীক্ষা শুরুর পর মূল প্রশ্ন সংগ্রহ করে আগের রাতের ভুয়া প্রশ্নের জায়গায় ‘রিপ্লেস’ করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে থাকে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, প্রতিবেদনটিতে ত্রুটি ও তথ্যের ঘাটতি থাকায় সেটি বোর্ড থেকে প্রতিবাদের আগেই কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মও নিশ্চিত করেছে যে, এটি প্রকৃত প্রশ্নফাঁস নয়। তিনি আরও বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই সময়ের বিতর্কিত বিষয়বস্তু ও বিকৃত ইতিহাসের ধারা বদলে বর্তমান সরকার একটি মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।
মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণমানুষের সরকার বর্তমানে যে ‘আনন্দময় শিক্ষা’র সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, কোনো ধরনের প্রতারণা বা অসৎ কৌশল তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি দেশবাসীকে তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো গুজবে কান না দেওয়ার এবং দায়িত্বশীল সমালোচনার আহ্বান জানান। সরকার মাত্র দুই মাসেই শিক্ষাখাতে দৃশ্যমান ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।