↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৫ মে ২০২৬, ৭:০৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৫ মে ২০২৬, ৬:৫৩ এ.এম

তিন দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, গুরুত্ব পাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বিনিয়োগ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ‘ভারসাম্যনীতি’ আরও স্পষ্ট করে ভারত সফরের মাত্র এক মাসের মাথায় প্রথম বেইজিং সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তারা কুনমিং হয়ে বেইজিং পৌঁছাবেন এবং ৭ মে দেশে ফিরবেন। সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ৬ মে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ওয়াং ই-এর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন ড. খলিলুর রহমান। একই দিনে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সাথেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের সফরের মূল লক্ষ্য ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে আরও ‘কৌশলগত ও বাস্তবমুখী সহযোগিতায়’ রূপ দেওয়া। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় আট হাজার কোটি টাকার এই মহাপরিকল্পনায় চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

এছাড়া পূর্বাচলে চীনের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে চীনা শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। চীনের প্রস্তাবিত গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (জিডিআই) নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ এখনই এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জিএসআই ও জিসিআই-এর মতো বহুপাক্ষিক উদ্যোগের ক্ষেত্রেও ঢাকা ঝুঁকি ও সুবিধা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, গত ৭ এপ্রিল ভারত সফরের পর এই চীন সফর বাংলাদেশের ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ কূটনীতি’রই অংশ। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে না জড়িয়ে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা। এদিকে, বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া এই আমন্ত্রণ দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।