↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৮ মে ২০২৬, ৭:১৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৭ মে ২০২৬, ৭:০৫ পি.এম

ওয়াকফ সম্পত্তি আর লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াকফ সম্পত্তি আর কেউ ‘লুটপাট করে খেতে পারবে না’ এবং দানকারীদের (ওয়াকিফ) প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুযায়ী এসব সম্পত্তি পরিচালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী দেশের ওয়াকফ সম্পত্তির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহ ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এই বিশাল সম্পত্তির বড় অংশই এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে সঠিক তদারকির অভাবে ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “সরকার চায় মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা বা জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে দান করা এই সম্পত্তিগুলো যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়। এখান থেকে অর্জিত আয় নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হতে হবে। দুর্নীতি বা চুরির কোনো সুযোগ আর থাকবে না।”

ভাড়া বৈষম্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী রাজধানীর গাউসিয়া মার্কেটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একটি ওয়াকফ এস্টেট হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার দোকানগুলোর মাসিক ভাড়া এখনো ১১২ টাকা থেকে ২ হাজার ১১৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় নগণ্য। অন্যদিকে, চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহর একটি দোকানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর ৩৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সব ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ওয়াকফ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।