বরিশালে জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট: ৬ মাস ধরে মিলছে না সরকারি হাসপাতালে, হাহাকার ফার্মেসিতেও

বরিশালে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী ‘অ্যান্টি-র্যাবিস’ বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই টিকা মিলছে না। একই সঙ্গে নগরীর বেসরকারি ওষুধের দোকানগুলোতেও সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকালে বরিশাল সদর হাসপাতাল (জেনারেল হাসপাতাল) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো অসংখ্য মানুষ টিকার খোঁজে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে ভিড় করা রোগীদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে যে, তাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন মজুদ নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগীকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হতো। কিন্তু সরকারি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত আধা বছর ধরে এই সেবাটি পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। নগরীর বড় ফার্মেসিগুলোও জানিয়েছে, কোম্পানিগুলো দীর্ঘ দিন ধরে তাদের সরবরাহ দিচ্ছে না, ফলে চড়া দাম দিয়েও টিকা কিনতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা।
ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করে বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, এই সংকট সাময়িক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে ভ্যাকসিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরবরাহ পাওয়া মাত্রই পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে পশু-পাখির সংস্পর্শে থাকার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। কোনো পশু কামড়ালে বা আঁচড় দিলে আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট ধোয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।