↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৭ মে ২০২৬, ৯:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৬ মে ২০২৬, ৯:১১ পি.এম

কর্ণফুলী ও সংযুক্ত খালের ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন তিন প্রতিমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত মহেশখালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুখে চলমান ড্রেজিং কার্যক্রম যৌথভাবে পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রী। শনিবার (১৬ মে) এই পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনে অংশ নেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি কর্ণফুলী নদীর নাব্য রক্ষা এবং নদীর সাথে সংযুক্ত খালগুলোর মুখে চলমান ড্রেজিং কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীদের বিস্তারিত তথ্য জানান।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর যথাযথ নাব্য বজায় রাখা এবং এর সাথে সংযুক্ত খালগুলোর মুখে পানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে নিয়মিত এই ড্রেজিং পরিচালনা করছে। এর ফলে চট্টগ্রাম নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতুর উজান পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার নেভিগেশনাল চ্যানেল এবং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত আটটি গুরুত্বপূর্ণ খালসহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বজায় থাকছে এবং পলি জমার হার অনেকাংশে কমে এসেছে।

এর আগে খালের সম্মুখভাগের এই ড্রেজিং কার্যক্রমের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পালন করার কথা থাকলেও, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন করায় সিটি করপোরেশনের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। এই ড্রেজিং বাবদ চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে তিন প্রতিমন্ত্রী নদী ও খালের মুখের বর্তমান ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীমুখ ভরাট হয়ে যেন চট্টগ্রাম নগরীতে নতুন করে কোনো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক, চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার ওবায়েদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (পরিবহন) গোলাম মোহাম্মদ সারোয়ারুল ইসলাম এবং পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কমান্ডার সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমানসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।