↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২২ মে ২০২৬, ২:৩৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২১ মে ২০২৬, ৬:৩৫ পি.এম

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত, আরও সংস্কারের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে কেবল একটি সাধারণ কর্তব্য হিসেবে দেখে না, বরং একে মানবতার প্রতি এক বড় দায়িত্ব মনে করে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (২০ মে) মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ‘ফ্রাংকোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা’ বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। ২০১৬ সালে ফ্রান্সে এই বিশেষ ফোরামের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব বাড়ানোর তাগিদ দেন। একই সঙ্গে আধুনিক শান্তি তৎপরতার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বিভিন্ন উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি অপপ্রচার, ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কার্যপরিধি নির্ধারণ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা এবং সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

মিশনে অংশ নেওয়ার আগে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং’ (বিপসট)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি দেশের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করেন।

বিশ্ব শান্তির সেবায় জীবন উৎসর্গকারী ১৭৪ জন সাহসী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘের কার্যক্রমে বর্তমানে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের যে শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে আরও সুসংহত হয়েছিল; যা আজও বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে পথ দেখাচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এগুলোকে টেকসই শান্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। সম্মেলনে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় শামা ওবায়েদ ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশ নেন এবং সেখানে ‘জিওপলিটিক্স অব ফ্র্যাগমেন্টেশন: পাওয়ার, এস্কেলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিঅর্ডারিং’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল বক্তা হিসেবে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাবের ওপর বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।