পল্লবীতে নিহত শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছর বয়সি স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারের পরিবারের খোঁজখবর নিতে ও সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সভা শেষ করে ৯টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাদের বাসায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তিনি শোকসন্তপ্ত মা-বাবার পাশে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
এদিকে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার এই নৃশংস ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে সোহেল রানা নামের এক যুবক। এই ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের অন্য কক্ষের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশু রামিসাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে রামিসার উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল।
ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, ঘটনার দিন সকালে দরজার সামনে শিশুটিকে দেখার পর ইয়াবা আসক্ত থাকায় তার মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
নির্যাতনের পর শিশু রামিসা বিষয়টি তার মা-বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে অপরাধ ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সোহেল রানা। হত্যার পর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষের খাটের নিচে এনে রাখা হয়। ওই সময় বাইরে থেকে রামিসার মা দরজায় ধাক্কা দিলেও মূল আসামি সোহেলকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখেন। পরে সোহেল পালিয়ে গেলে স্বপ্না দরজা খোলেন। এই পুরো নৃশংস প্রক্রিয়ায় স্বপ্না তার স্বামীকে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।