মৃত প্রবাসীর অনুদানের নামে ঘুষ: প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ৩ কর্মচারী বরখাস্ত

সৌদি আরবে মৃত্যুবরণকারী এক প্রবাসী কর্মীর পরিবারের আর্থিক অনুদান মঞ্জুরির বিনিময়ে এবং অন্য এক ভুক্তভোগীকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিন কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা হলেন— ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন ও অফিস সহায়তক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম।
অভিযোগ ও দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন বা কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী প্রবাসী কর্মী মো. কাইয়ুমের (ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাতলাশী গ্রামের মৃত মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে) পরিবারের অনুকূলে মৃত্যুর আর্থিক অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নিরাপত্তা প্রহরী শফি উদ্দিন ও অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম আরেক ভুক্তভোগীকে ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ ২৪-এর সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন ও ভুক্তভোগী পরিবার সুনির্দিষ্ট ভিডিও প্রমাণসহ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক তাৎক্ষণিকভাবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত কর্মচারীদের দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।
বোর্ডের অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, কর্মচারীদের এমন আচরণ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তা স্পষ্টত চাকরি বিধিমালা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। ফলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নিজ নিজ বিধি অনুযায়ী আজ ২৩ মে থেকেই তাদের চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দেশে এবং বিদেশের দূতাবাসে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। প্রবাসীদের সহযোগিতায় কোনো ধরনের গাফিলতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেন।