↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ মে ২০২৬, ৩:২৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৪ মে ২০২৬, ৪:৫৭ পি.এম

স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কার্যক্রমে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্যের মান এবং তা সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিশুদের পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নে বর্তমান সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক নির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এটি কোনো সাধারণ আনুষ্ঠানিক সভা নয়। এটি শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। তাই সরকারি কর্মকর্তা কিংবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সততার সাথে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এত বড় একটি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হবে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। তবে ব্যবসার নামে শিশুদের খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। যারা সঠিকভাবে চুক্তি ও শর্ত মেনে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, ভবিষ্যতে তারা এই কার্যক্রমে আর যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে তিনি সতর্ক করেন।

কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সভায় প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু নতুন ও কঠোর নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—খাদ্য কোথা থেকে আসছে, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং কার মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পৌঁছাচ্ছে, তার সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে। এ ছাড়া খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান নিয়োগ, স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায় থেকে খাদ্য সংগ্রহ এবং প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে খাদ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

এটিকে একটি পাইলট কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো সমাধান করেই আগামীতে সারা দেশে আরও বড় পরিসরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সভায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা।