↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ মে ২০২৬, ৩:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৪ মে ২০২৬, ৬:৪৪ পি.এম

চার বছরের দায়িত্ব শেষে ঢাকা ছাড়ছেন প্রণয় ভার্মা, বিদায়বেলায় বিশেষ বার্তা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তাঁর দীর্ঘ চার বছরের কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন শেষে ঢাকা ছাড়ছেন। বাংলাদেশে কর্মকাল শেষ করে তিনি বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ঢাকা ছাড়ার প্রাক্কালে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশে গভীর আবেগ ও স্মৃতিকাতরতা সংবলিত একটি বিশেষ লিখিত বিদায় বার্তা দিয়েছেন তিনি।

প্রণয় ভার্মা তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, প্রচলিত তিন বছর মেয়াদের চেয়েও দীর্ঘ প্রায় চার বছর তিনি ও তাঁর স্ত্রী মনু ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এই সুদীর্ঘ সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে একাধিক পরিবর্তন ও নতুন নতুন অংশীজন প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। কাজের পরিবেশ কখনো কখনো বন্ধুর হলেও সামগ্রিকভাবে এই যাত্রা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ফলপ্রসূ ছিল বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অত্যন্ত বিশেষ ও অনন্য হিসেবে অভিহিত করে বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশ কেবল অভিন্ন ভূগোল, ইতিহাস, ভাষা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমেই সংযুক্ত নয়, বরং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মিলিত আত্মত্যাগের এক গভীর আবেগীয় বন্ধনে আবদ্ধ। একে অপরের ওপর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও কল্যাণের এই বাস্তবতাই আগামী দিনেও দুই দেশের সম্পর্ককে পথ দেখাবে।

বিগত ৫৫ বছরে দুই দেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে প্রণয় ভার্মা জানান, পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুই দেশই এখন অনেক বেশি সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে পরিণত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে অঞ্চলের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি হিসেবে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ভবিষ্যতের রূপরেখা নিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সক্ষমতা ও জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক নতুন কর্মসূচি প্রয়োজন; যা পারস্পরিক কল্যাণ ও শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে। ভৌগোলিক নৈকট্যকে দুই দেশের জন্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে একে নতুন সুযোগে রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সবশেষে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া উষ্ণতা ও স্নেহের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি সুহৃদ বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।