দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, সাময়িক বিভ্রাট হতে পারে: জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া বা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে সাময়িক বিদ্যুৎবিভ্রাট হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজ রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রছুল (যশোর–৪) তাঁর নির্বাচনী এলাকার গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং নোয়াপাড়া শিল্প এলাকায় বিদ্যুৎ–ঘাটতির অভিযোগ তোলেন।
এর জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলে লোডশেডিং হয় না। ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে যদি তার ছিঁড়ে যায়, তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা যাবে না। ওই ত্রুটি মেরামত করার জন্য যে সময়টুকু প্রয়োজন, কেবল সেই সময়টাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে এবং মেরামত শেষ হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎ সচল করা হয়।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার বাস্তবতার কথা উল্লেখ করেন এবং আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, দেশে গ্যাসের কিছুটা সংকট রয়েছে। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখার স্বার্থে গ্যাস সেখানে ডাইভার্ট করতে হচ্ছে, যার কারণে সার কারখানায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশে কোনো ড্রিলিং বা গ্যাস অনুসন্ধান করা হয়নি। বর্তমান সরকার এসে নতুন করে ড্রিলিং শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই নতুন গ্যাসের সন্ধান মিলবে এবং তখন আশুগঞ্জ সার কারখানাসহ অন্যান্য কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
তাছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ঘাটতি না থাকলেও এই পিক-আওয়ারে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
অধিবেশনের শেষভাগে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী-২ এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার চুরির সমস্যার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী জানান, পল্লী বিদ্যুতের বিশাল নেটওয়ার্কে এককভাবে ট্রান্সফরমার চুরি রোধ করা বেশ কঠিন। এই ধরনের চুরি ঠেকাতে স্থানীয় এলাকার মানুষকেও সচেতন ও সচেষ্ট হতে হবে।