↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৯ জুন ২০২৬, ৩:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৮ জুন ২০২৬, ৫:৫২ পি.এম

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত বিশ্ব বাজারে ক্রমশ শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে দেশের তৈরি ওষুধ ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) পক্ষ থেকে এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন বা টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। অতীতের সরকারের সময় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং এর সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো জরুরি চিকিৎসা উপকরণেরও ঘাটতি ছিল। তবে পরবর্তীতে দেশের বেসরকারি খাতের জোরালো সহযোগিতায় সেই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি মৌসুমের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য বিএপিআই অনুদান হিসেবে এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন দিয়েছে। বর্তমানে সরকারি কেন্দ্রীয় স্টোরে এক লাখ স্যালাইন মজুত রয়েছে।

তাছাড়া দেশের উপজেলা পর্যায়েও আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। এর বাইরেও যদি সামনে স্যালাইনের প্রয়োজন বা চাহিদা বাড়ে, তবে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।

এর আগে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুমৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে আরও দুই দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা সন্তোষজনক জবাব না দিলে পরবর্তীকালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে এবার আগে থেকেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যকর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতের টেকসই উন্নয়নে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে।