↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৯ জুন ২০২৬, ২:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৮ জুন ২০২৬, ৮:৪৩ পি.এম

ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে আইন সংশোধন করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার বিধান দেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক নোটিশ ও বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর বিস্তার ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সংসদে হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, বট নেটওয়ার্ক ও এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইন হয়রানি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে ভুয়া পরিচয়ে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট ও পেজ পরিচালিত হচ্ছে এবং বট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরি করে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের প্রধান, তাঁর স্ত্রী ও কন্যাসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবারকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে যেসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো আসলেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি না, তা পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা দরকার।

সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। সকালেই এই আইনি সংস্কারের ড্রাফট বা খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশোধিত আইনটিকে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ নামে অবহিত করা হবে। এর কতিপয় বিধান সংশোধন করে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে এবং এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার প্রতিরোধে নতুন শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে।

পরে হেলেন জেরিন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইনে এখনো এমন কোনো শক্তিশালী বিধান নেই, যার মাধ্যমে মেটাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরাতে বাধ্য করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিতে বাধ্য করলেও আমাদের বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে সেই কঠোর বিধানটা নেই। আইনি কভার না থাকায় বিটিআরসি অনুরোধ পাঠালেও মেটা কর্তৃপক্ষ অনেক সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না।

মন্ত্রী আশ্বাস দেন, নতুন সংশোধনীতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, সময়সীমাভিত্তিক কনটেন্ট অপসারণ এবং রিপোর্ট করা কনটেন্ট অপসারণ প্রক্রিয়া কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার স্পষ্ট বিধান থাকবে।

তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা সংস্থা ও বিটিআরসিসহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য সংস্থাগুলোকেও এ ধরনের ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।