বিরোধী দলীয় এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় সরকার দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।
বুধবার (১০ জুন) সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে বলেন, সরকার দলীয় নারী এমপিদের বিরোধী দলের এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি এবং জিও লেটার ইস্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিরোধী দলীয় এমপিদের এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো হাত থাকবে না কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট জানতে চান।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেন, আমাদের বা আপনাদের দল থেকে যেসব নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোনো আসন নেই। সে কারণেই খুব স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে যে তারা কোথায় কোথায় কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে একজন সংসদ সদস্যের নিজ নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে ভূমিকা রাখার সম্পূর্ণ হক বা অধিকার আছে। কিন্তু যেহেতু এ সংসদ নারী নেত্রীদের নির্বাচিত করেছে, সেহেতু খুব স্বাভাবিকভাবেই এলাকার উন্নয়নে তাদেরও একইরকমভাবে হক আছে। সে চিন্তা থেকেই সরকারের নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনার এলাকার উন্নয়নে যদি আমার কোনো সহযোগিতা করা লাগে, আপনি জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতার চেষ্টা করবো।”
উল্লেখ্য, জিও লেটার বা সরকারি অর্ডার লেটার হলো কোনো জনপ্রতিনিধি (এমপি, মন্ত্রী বা অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কর্তৃক সরকারি দপ্তরের কাছে দেওয়া একটি সুপারিশ বা অনুমোদনপত্র। সাধারণত কোনো এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা-মেরামত, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির এই জিও লেটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।