↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১২ জুন ২০২৬, ২:০১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১০ জুন ২০২৬, ১১:২৬ পি.এম

এস আলমের গাড়িতে চড়া নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ভারত থেকে দেশে ফেরার পর আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী এস আলমের মালিকানাধীন গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ার বিষয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (১০ জুন) সংসদের অধিবেশনে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নুন খেয়ে’ কিছু করছেন। পরে নজিবুর রহমানের এই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর এই ‘সেন্স অব হিউমার’-এর জন্য ধন্যবাদ জানান এবং স্পষ্ট করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনো ব্যক্তির গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেননি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কক্সবাজারে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। সে সময় ব্যাপক ভিড়ের কারণে বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কক্সবাজারে যখন আমি গিয়েছি, লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়েছিল। কোনো গাড়ি বিমানবন্দরে ঢোকার সুযোগ পায়নি। অনেক মাইক্রোবাস ছিল। একটাতে উঠলাম, সেখানে জায়গা হলো না। আরেকটাতে উঠলাম। পরে সমর্থকেরা আমাকে আরেকটি গাড়িতে উঠিয়ে দেয়।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে গাড়িটি বহু পুরোনো এবং সেটি নিয়ে যে ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, গাড়িটি কোনো ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত নয়, এটি মূলত ১৭-১৮ বছর আগের একটি পুরোনো গাড়ি। তারপরও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য তিনি তখনই জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং বিষয়টি ওখানেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।

নিজের আর্থিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রসাত্মকভাবে বলেন, “আমার চারটি গাড়ি আছে, আমার চারজন ড্রাইভার আছে। খুব একটা গরিব না।”

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াত সংসদ সদস্য নজিবুর রহমানের উত্থাপিত মন্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে এবং একটি পুরোনো প্রসঙ্গ সংসদে আবার টেনে আনা হয়েছে। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে এবং সংসদের কার্যবিবরণীতে অসংসদীয় কোনো বক্তব্য থেকে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী বাদ দেওয়া হবে।