সৌদিতে ৩ বছর চিকিৎসাধীন থাকা ওমরাহযাত্রী দেশে ফিরলেন, হাসপাতালে দেখতে গেলেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ ওমরাহযাত্রী হেদায়েতুল ইসলামের (৭৪) খোঁজখবর নিতে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
রোববার (১৪ জুন) সকালে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং রোগীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে রোগীর পরিবারের পরামর্শ ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন মন্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেনীর বাসিন্দা হেদায়েতুল ইসলাম ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সেদেশের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। প্রবাসের মাটিতে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে তিনি মারাত্মক আর্থিক ও শারীরিক সংকটে পড়েন।
সম্প্রতি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বিষয়টি অবগত হন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিশেষ উদ্যোগ নেন। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলতি বছরের ১৩ মে হেদায়েতুল ইসলামকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাশাপাশি তার চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন মন্ত্রী।
এদিকে রোগীর পরিবারের সুবিধা ও চিকিৎসা কার্যক্রম সহজ করতে তাকে নিজ এলাকা ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন ধর্মমন্ত্রী। মন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন বিদেশে অসুস্থ অবস্থায় থাকার পর দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ায় ধর্মমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে হেদায়েতুল ইসলামের পরিবার।
এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, “হেদায়েতুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি জানার পর আমি তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসা ও সুস্থতার বিষয়টি আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।”
সৌদি সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।