↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৭ জুন ২০২৬, ৩:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৬ জুন ২০২৬, ৯:৩৫ পি.এম

প্রতিশোধের মানসিকতা ভুলে আমাদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিহিংসার মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, “আমাদের প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অতীতের অন্যায়ের প্রতিশোধ নিলে তা আর ফেরত পাওয়া যাবে না, তাই দেশের জন্য আমরা কী করতে পারি সেই চেষ্টা করা উচিত। দেশের জন্য কাজ করার ইতিবাচক মাইন্ডসেট নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপি বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই। বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের কোনো কাজে ভুল হতে পারে, সে বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে গঠনমূলক আলোচনা হোক। রাষ্ট্র পরিচালনায় সঠিক পথ খুঁজে পেতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে ভালো কাজের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে সরকারের কাজ অনেক সহজ হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রতি বছর ১৬ জুন পালিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ এর প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তৎকালীন বাকশাল সরকার ৪টি সরকারি প্রচারপত্র বাদে দেশের সব পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রের ওপর সেই সময় যে দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা এখন আর নেই। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং সংবাদপত্রের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।

তরুণ প্রজন্মের বিকাশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যুবসমাজের সামনে মাদক একটি বড় সমস্যা। সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু ধরে বা কাউন্সেলিং করে এটি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের বিপুল মানসিক ও শারীরিক শক্তিকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মতো ইতিবাচক খাতে ব্যবহার করতে হবে। সারা দেশে খেলার মাঠের সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছে, যার একটি ইভেন্টে দেশজুড়ে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তবে এত বড় আয়োজন সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক সহিংসতার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্কুল পর্যায় থেকেই মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তরুণদের মেধা বিকাশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বছরজুড়ে বিতর্ক, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও ‘সায়েন্স ফেয়ার’ আয়োজনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।