↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৭ জুন ২০২৬, ৩:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৬ জুন ২০২৬, ৯:৪৯ পি.এম

আগামী জুলাই থেকে ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবার পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশের প্রায় ৪১ লাখ ২০ হাজার পরিবারের কাছে আগামী জুলাই মাস থেকে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে এই কার্ডের সুবিধা সুনির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘সর্বজনীন’ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১১ সাল থেকে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে গবেষণা শুরু করা হয়, যেখানে তাঁর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন যুক্ত ছিলেন।

ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ কেন পুরুষদের পরিবর্তে নারীদের দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষদের হাতে টাকা দিলে তা দ্রুত অপচয় বা বিকেলের আড্ডায় খরচ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। অন্যদিকে কোনো মহিলা গৃহিণীর হাতে টাকা দিলে তিনি অত্যন্ত হিসাব করে তা পরিবারের জরুরি প্রয়োজন যেমন—ওষুধ, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা বা ভালো খাবারের পেছনে ব্যয় করেন।

তাছাড়া গৃহিণীরা এই টাকা থেকে এক পর্যায়ে সঞ্চয় করতে পারবেন যা দিয়ে পরবর্তীতে হাঁস-মুরগি বা ছাগল পালনের মতো ছোট ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। এর ফলে গ্রামীণ নারীরা দেশীয় পোশাক, স্থানীয় কোম্পানির চিপস বা দেশীয় জুয়েলারি সামগ্রী কিনবেন, যা প্রকারান্তরে দেশের স্থানীয় শিল্প ও মুদির দোকানগুলোর বিক্রি বাড়াবে এবং নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই টাকা দেশের বাইরে পাচার না হয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেই থেকে যাবে এবং তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে চার কোটির মতো পরিবার রয়েছে এবং তাত্ত্বিকভাবে দেশের সব পরিবারের স্ত্রীদের এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি সচ্ছল পরিবারের এই আড়াই হাজার টাকার প্রয়োজন হবে না এবং সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত এসে অন্য কাজে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্পের ভুলত্রুটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে গত তিন মাস ধরে একটি পাইলট প্রজেক্ট চালানো হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।