↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৮ জুন ২০২৬, ২:৪২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৭ জুন ২০২৬, ৫:০৭ পি.এম

সময়মতো অফিসে না এলে চাকরি ছাড়তে হবে: আইনমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত অফিস সময় কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের হয়রানি কমানো বর্তমান সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। যারা সময়মতো অফিসে আসবেন না, ধরে নেওয়া হবে জনগণের প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা নেই এবং তাদের বিদায় নিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে একটি আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধান ও স্থানীয় সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, “জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনার জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নেই। দেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক যোগ্য লোক পেতে পারি। তবে জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কার্পণ্য আগামীতে বরদাশত করা হবে না।”

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা উপার্জন করে তা প্রদর্শন করার যে সুযোগ পেত, সেই যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। বৈধ আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে যারা কোটি কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকার চুপচাপ বসে থাকবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। একই সাথে, ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারিদের কোনো দল নেই উল্লেখ করে তাদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে তদবির না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

চলতি বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি স্বপ্ন দেখতে জানে বলেই এমন স্বপ্নবাজ ও উচ্চাভিলাষী বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। এবারের বাজেটে দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর কমানো হয়েছে এবং সামাজিক উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার সারা দেশের ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়েছে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এবং পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।