↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৯ জুন ২০২৬, ৫:১৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পি.এম

প্রস্তাবিত বাজেট ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে: জাতীয় সংসদে সরকারি দলের এমপিরা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট দেশে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য কমাতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, দেশের প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ও তাদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্য থেকেই সরকার এই জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আয়োজিত সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন। এর আগে গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিদায়ী অর্থবছরের সম্ভাব্য ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে এবং দীর্ঘদিনের চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে এ বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এটি সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এবারের বাজেটকে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও ‘সুচিন্তিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে তিনি সংসদকে জানান। এ সময় আইনমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তোলা হলেও সংসদের তৎকালীন বিরোধী দল এ নিয়ে কোনো যথাযথ সমালোচনা করেনি।

বাজেটের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকাতুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য বড় স্বস্তির কারণ। কৃষি, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে তৃণমূলের উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ এই বাজেটের অন্যতম শক্তি। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে দেশ একটি শক্তিশালী অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু খতিয়ান নিয়ে সমালোচনা করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেটে প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ acoustic ৪৩ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের যে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা না গেলে বাজেট ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান (যশোর-১) বলেন, এই বাজেট আগের বাজেটের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বড়। ফলে মাঠপর্যায়ে এত বিশাল আকারের বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বাজেট আলোচনায় সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র আসনের আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অংশ নিয়ে নিজ নিজ বক্তব্য ও মতামত পেশ করেন।