↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ৮:০৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ পি.এম

গুণী মানুষদের সম্মান জানালে বাংলাদেশ গর্বিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে: ড. মঈন খান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশে গুণী ও বরেণ্য মানুষদের সঠিক সম্মান জানাতে পারলে শুধু ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ একটি গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি আগামী দিনে দেশের কৃতি সন্তানদের যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ ও ‘দিনকাল’-এর সাবেক সম্পাদক আখতার উল আলমের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মরহুম আখতার উল আলমের সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে ড. মঈন খান বলেন, অতীতে এমন একটি কঠিন সময় ছিল যখন সত্য কথা লেখার কারণে সাংবাদিকদের নানামুখী ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হতো। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আখতার উল আলম ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে নিজের কলাম লিখতেন। এই ‘লুব্ধক’ কেবল একটি ছদ্মনাম ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি বলিষ্ঠ কৌশল। তিনি তাঁর লেখায় সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, কূটনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে নিয়মিত উদারচেতা ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ ফুটিয়ে তুলতেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই প্রথিতযশা সাংবাদিকের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার কারণে আখতার উল আলমকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছিল। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের একজন আপসহীন মানুষ। যখন অনেকে প্রতিবাদের সাহস দেখাতে পারেননি, তখন তিনি সাহসিকতা দেখিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মঈন খান আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সে সময় দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও আখতার উল আলমের সফলতার কথা তুলে ধরে ড. মঈন খান জানান, রাষ্ট্রীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ১৯৩৯ সালে রংপুরের মিঠাপুকুরে জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তিত্ব পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও কূটনীতির জগতে নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতায় এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

স্মরণসভায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে যারা আজীবন অবদান রেখেছেন, বর্তমান সময়ে এসে তাঁদের অনেককেই আর স্মরণ করা হয় না। বরেণ্য ব্যক্তিদের মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো জাতীয় নেতাদের জন্য কি রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় কোনো অনুষ্ঠান হয়? এখন শুধু টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে বিবৃতির মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। যে জাতি তার বীর ও পথপ্রদর্শকদের মনে রাখতে পারে না, সে জাতি কখনো সঠিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সাংবাদিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট বিদগ্ধ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের সকল কৃতি ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন ও কর্মের সঠিক তথ্য সরকারিভাবে সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।