↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ৮:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ১:৩৮ এ.এম

জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগের বক্তব্য ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’: বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তার পদ থেকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক লোক দেখানো বা ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা। পদত্যাগের পেছনে কিছু রাজনৈতিক ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা এসব কথা বলেন। গত মঙ্গলবার জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগ করার পর যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

এম বদরুদ্দোজা বলেন, দেশের আইনি ও রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। অতীতেও দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন কোনো দল ক্ষমতায় এলে পূর্ববর্তী সরকারের আইন কর্মকর্তারা নিজ থেকেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

কিন্তু বর্তমান ঘটনার সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘মজার বিষয় হলো, আমাদের যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে বিগত চার মাস ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তাঁরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ও নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং পদ-পদবিও ব্যবহার করেছেন। চার মাস পার হওয়ার পর যখন তাঁদের মনে হলো পদত্যাগ করা প্রয়োজন অথবা তাঁরা অপসারিত হতে পারেন, ঠিক তখনই তাঁরা কিছু রাজনৈতিক বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন।’

পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের বিগত চার মাসের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের সুবিধা নিয়ে চার মাস কাজ করার পর দিন শেষে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া স্বাভাবিক নয়। এই সময়ে তাঁরা সরকারের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেছেন নাকি ভেতরে থেকে কোনো অন্তর্ঘাত বা স্যাবোটাজ করেছেন, তা খতিয়ে দেখতে গত চার মাসের সমস্ত ফাইলের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁদের কর্মকাণ্ডে সরকারের স্বার্থ রক্ষা হয়নি বলেই প্রতীয়মান হয়।

উক্ত ব্রিফিংকালে এম বদরুদ্দোজার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট শাখার সদস্যসচিব গাজী তৌহিদুল ইসলাম এবং আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহীসহ অন্যান্য আইনজীবী নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার পদত্যাগকারী ১৮ জন কর্মকর্তা এক ব্রিফিংয়ে দাবি করেছিলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন না করা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে তাঁরা একযোগে পদত্যাগ করেছেন।