↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ৮:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ১:৫২ এ.এম

তূর্ণা এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপ: চোখ হারালো আয়কর আইনজীবী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন আয়কর আইনজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচারের পরও তাঁর ডান চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের চোখটি পুরোপুরি অপসারণ করতে হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘তূর্ণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে হঠাৎ পাথর নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় একটি পাথর ট্রেনের জানালা ভেদ করে ভেতরে থাকা শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে সরাসরি আঘাত হানে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে দীর্ঘ অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকেরা তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি বাঁচাতে ব্যর্থ হন এবং তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য পেয়ে আজ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সাধারণ রেলযাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন রেলরুটে দীর্ঘদিন ধরেই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের এই প্রাণঘাতী প্রবণতা চললেও তা প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। ফলে যাত্রীদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে রেলওয়ের নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত নিরাপত্তা টহল জোরদার এবং এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা।