↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ৮:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৫ জুন ২০২৬, ২:৩৩ এ.এম

দেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, পরিশোধের চাপ বাড়ার শঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন (৭৮,২২৩.৪৪৮ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিপুল পরিমাণ এই ঋণের কারণে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল এবং সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বুধবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিসংখ্যান দেন।

সংসদে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত সংগৃহীত এই মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণ। অন্যদিকে, ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল বা তুলনামূলক কঠিন শর্তের ঋণ। কনসেশনাল ঋণে সুদের হার কম এবং পরিশোধের মেয়াদ দীর্ঘ হলেও কঠিন শর্তের ঋণে সুদের হার বেশি হওয়ায় তা ভবিষ্যতে দেশের ওপর ঋণ পরিশোধের বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে।

তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রী জানান। এখন থেকে নতুন যেকোনো বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না হয়।

তাছাড়া যেসব প্রকল্পে উচ্চ অর্থনৈতিক সুফল বা ‘ইকোনমিক রিটার্ন’ পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে, কেবল সেগুলোর জন্যই বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে নিবিড় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই ও সহনশীল করতে সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল (মিডিয়াম টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি) হালনাগাদ করার পাশাপাশি ‘ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস’ (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিগগিরই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু করা হবে।