↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৭ জুলাই ২০২৬, ৫:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৬ জুলাই ২০২৬, ৬:৫৪ পি.এম

বিদ্যুৎ বিলে কিছু করণিক ভুল শনাক্ত, দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ বিদ্যুৎ বিভাগের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া জনঅসন্তুষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে বিতরণ সংস্থাগুলোকে দ্রুত অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা কিংবা গ্রাহক হয়রানির সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ইতোমধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অধিকাংশ অভিযোগেরই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুন মাস থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হয়েছে। এর ফলে একই পরিমাণ টাকা রিচার্জ বা পরিশোধ করলেও আগের তুলনায় কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের তাই আগের চেয়ে বেশি বার রিচার্জ করতে হচ্ছে, যা অনেকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়ার মতো মনে হচ্ছে।

বিভাগের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিল বেড়ে যাওয়ার পেছনে মিটারের কোনো ত্রুটি নেই। মূলত নতুন ট্যারিফ হার কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি তীব্র গরম, কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, ফিফা বিশ্বকাপ ও এসএসসি পরীক্ষার কারণে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে অনেক গ্রাহক উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে (ধাপ) চলে গেছেন, যা বিল বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিল প্রস্তুতের সময় করণিক ভুলের প্রমাণ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই ধরনের বিলগুলো বর্তমানে পুনঃযাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে জানানো হয়েছে, নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য আগের ট্যারিফ হারই বহাল রাখা হয়েছে।

যেসব গ্রাহকের মনে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের নিজ নিজ বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মিটার পরীক্ষা ও বিল পুনঃযাচাই করে দ্রুত সমাধান দেওয়া হবে। পাশাপাশি, মিটারের ভাড়া নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নটি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।