↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১১ জুলাই ২০২৬, ৮:৩৬ পি.এম

বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সারাদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা কবলিত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে সরকার। বিশেষ করে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলায় মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব অনুষঙ্গকে মাঠে নামানো হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মুখপাত্র জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের সংযোগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যেমন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন।

বন্যাদুর্গতদের জরুরি সহায়তার বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চালসহ প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এছাড়া উপকূল ও সীমান্ত এলাকায় কোস্টগার্ড ও বিজিবি এবং অতি উপদ্রুত জেলাগুলোতে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যজীবী ও খামারিদের পুনর্বাসনের জন্য ক্ষতিপূরণের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি খুব শিগগিরই বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু করা হবে। দুর্যোগের এই সময়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে সংকট উত্তরণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।