ক্ষতিগ্রস্তদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, গৃহহারা মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যা ও ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি এবং গবাদিপশুর খামারিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা চত্বরে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে বন্যায় ঘর হারানো ২০টি দুর্গত পরিবারের হাতে টিন, খাট ও লেপ-তোশকসহ প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বেসরকারি এই সংস্থাটি পর্যায়ক্রমে আরও ৮০টি পরিবারকে এই পুনর্বাসন সহায়তা দেবে বলে জানানো হয়।
উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বারবার বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে এই অঞ্চলকে বাঁচাতে শক্তিশালী ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভেতরের জলাবদ্ধতা দূর করতে দীর্ঘদিন ধরে অচল ও বন্ধ হয়ে থাকা স্লুইসগেটগুলো দ্রুত সচল করার কাজ শুরু হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের পাশে থাকাকে নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনতা’—প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি মেনেই প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলা করছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিনব্যাপী পেকুয়া এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত অঞ্চল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি মেহেরনামা, শিলখালী, বারবাকিয়া বাজার, টইটং ও রাজাখালী এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পরে উজানটিয়ার সোনালী বাজার স্লুইসগেট এবং কোনাখালী ইউনিয়নে মাতামুহুরী নদীর ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন তিনি। এছাড়া বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নের দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় স্থানীয় ভাষায় সবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।