রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জানালেন সাংবিধানিক নিয়ম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এ বিষয়ে সরকারের জানা মতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা আপাতত গুঞ্জনই। ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে, তখন বিষয়গুলো দেখা যাবে। তবে রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে স্বউদ্যোগে দায়িত্ব ছাড়তে চান, তাহলে সংবিধানে সেই সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে এবং পরবর্তীতে সাংবিধানিক নিয়মেই সিদ্ধান্ত হবে।
বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ও পরবর্তীতে বিএনপি সরকার গঠনের পরও তার অবস্থান নিয়ে নানা কথা উঠলেও সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য দাবি তোলা হয়নি।
সাংবিধানিক বিধান অনুসারে, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।