↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩১ জুলাই ২০২৬, ৪:৫০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, ৪:৪৭ পি.এম

আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের হাত থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও স্ক্যাম চক্রের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ট্রাপেড বিহাইন্ড দি স্ক্যাম: এনডিং হিউম্যান ট্রাফিকিং ফর ফোর্সড ক্রিমিনালিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবপাচারের ধরণ এখন চরম জটিল ও পরিবর্তনশীল। অপরাধীরা প্রথাগত পথের বাইরে বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভুয়া অনলাইন নিয়োগ বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতে তরুণদের উন্নত ভবিষ্যতের প্রলোভন দেখাচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের বিদেশে নিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি রেখে নির্যাতন ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে। এই বহুমুখী হুমকি প্রতিরোধে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; বরং প্রযুক্তি খাত, ব্যাংক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সচেতন সমাজকে নিয়ে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুগের সঙ্গে সংগতি রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতিসংঘের ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম কনভেনশন (ইউএনটিওসি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরিকৃত এই নতুন আইনে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে বাধ্য করাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ চূড়ান্ত করছে এবং ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ‘ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম)’ জোরদার করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. লিয়াকত আলী মোল্লা, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইওএম বাংলাদেশ-এর চিফ অব মিশন ড. লরা টম বোন্ডে।

এছাড়াও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়াসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইউএনওডিসি এবং জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।