২১ সদস্যের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণে উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
সংগঠনের উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে মোহাম্মদ উল্লাহ মধুকে সম্পাদক এবং ইকবাল হোসেনকে (সাম্য শাহ) মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এনসিপির ভূমিকা এবং সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দেশের সাম্প্রতিক সংকটকালে ষড়যন্ত্রমূলক উপাদান কাজ করছে। উদ্ভূত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন তিনি।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও শিক্ষিত বেকারত্বের সংকট তুলে ধরে সরকারের প্রতি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্ব ও একাত্তরের গণআকাঙ্ক্ষা কোনোটিই এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। পাশাপাশি তিনি বিএনপির দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং বিচারে স্বাধীনতার নীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের ধৈর্যশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এনসিপির গঠন ও তাদের রাজনৈতিক চর্চা একটি পুরো প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। রাজনীতি কোনো স্বল্পমেয়াদি বিষয় নয় উল্লেখ করে অপরাজনীতি পরিহার এবং সুস্থ ধারার টেকসই রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিএনপির প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।