↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:১০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪০ পি.এম

রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক আধুনিকায়নে এআই ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারি: ব্যাপক সাফল্য ও মামলা হ্রাসের চিত্র

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা ও ড্রোনের নজরদারি জোরদার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তা ইতোমধ্যেই সড়কে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) শাহবাগসহ রাজধানীর ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যালে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল পুলিশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই চালকরা ট্রাফিক লাইটের সংকেত, স্টপ লাইন ও উল্টো পথে না চলার নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি, হঠাৎ যানজটের কারণ শনাক্তকরণ এবং ভয়েস বার্তার মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়ার সুবিধার্থে ড্রোনের ব্যবহারও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে, যা পরিচালনায় তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি বন্ধে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা গতিসীমা লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলাচল কিংবা ওভারটেকিং শনাক্ত করে সরাসরি বিআরটিএ ও গাড়ির মালিকের ফোনে মেসেজের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় জরিমানা পাঠাচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল মিলছে হাতেনাতে। ১৮ আগস্ট নজরদারি শুরুর প্রথম দিনে ৪৪৬টি স্বয়ংক্রিয় মামলা নথিভুক্ত হলেও, সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দশম দিনে মামলার সংখ্যা মাত্র ৩৪ এ নেমে আসে। ১০ দিনের ব্যবধানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৯২.৩৩ শতাংশ মামলা কমে গেছে, যা মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে একটি বড় অর্জন বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তিনির্ভর এই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার ফলে প্রভাবশালীদের মামলা বাতিলের হস্তক্ষেপ কিংবা ম্যানুয়াল হয়রানির সুযোগ বন্ধ হয়েছে। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত এই সতর্কতা যদি শেষ পর্যন্ত চালকদের নৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে দেশে কাঙ্ক্ষিত ‘নিরাপদ সড়ক’ বাস্তবায়ন আর বেশি দূরে নয়।