শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ বাংলাদেশের থাকলেও গত ১৫ বছরের গুম-খুন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেড় সহস্রাধিক মানুষ হত্যায় অভিযুক্ত ‘পলাতক সন্ত্রাসী’ শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা পরিষদে জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগদানের পূর্বে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে যেমন কোনো ভারতীয় সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, ঠিক তেমনি ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত মেনে নেবে না বর্তমান সরকার। জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমতার নীতিতেই সরকারের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত হচ্ছে।
হুমায়ুন কবির জানান, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত বৈধ সরকার হওয়ায় বর্তমান প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত সুদৃঢ়। ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বে’ রূপ নিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তরোত্তর মজবুত হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো চিঠিতে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরকালে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত ও জুমার নামাজ আদায় করেন। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, জুমার নামাজ শেষে দরগাহ শরিফে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা অনাকাঙ্ক্ষিত হেনস্তার শিকার হলে সাময়িকভাবে সংবাদ সংগ্রহ থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপি নেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার সুরাহা করেন।