↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৪ পি.এম

অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে যারা ‘গুপ্ত’ অবস্থানে লুকিয়ে ছিল, বর্তমানে তাদের মাঝেই ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার আশ্রয় নিয়ে দেশে নতুন করে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে নির্দিষ্ট কিছু দল ‘গুপ্ত বেশ’ ধারণ করেছিল, যা পরবর্তীতে তাদের নিজেদের লোকজনের মুখ থেকেই প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে ১৯৮৬, ১৯৯৬ এবং বিগত এক যুগ ধরে এই ‘ভাইস ভার্সা’ শক্তিগুলো পরস্পরকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়ে এসেছে। এখন তারাই আবার স্বৈরাচারী শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছে কি না, তা জনগণের সামনে উন্মোচিত করা প্রয়োজন।

সরকারের গণতান্ত্রিক নৈতিকতা ও আইনি অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখবে, তবে দেশের আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে সীমার বাইরে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে তা কীভাবে দমন করতে হয় তা আইনেই নির্ধারিত রয়েছে। তাই সকলকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় জীবনের নানা ক্রান্তিলগ্নে বিএনপির ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্ত করতে বিএনপি নিরলস পরিশ্রম করেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ নাগরিক ও শিল্পকারখানার মালিকেরা যে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক ইতিহাসের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পর শুরু হয় মূল আলোচনা পর্ব।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন।