↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পি.এম

মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাস

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার করা, জোরপূর্বক গুমের প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) পাস হওয়া বিলগুলো হলো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’, ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রথম ও তৃতীয় বিল দুটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

পাস হওয়া ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ শাস্তি রাখা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি মারা গেলে অথবা টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রমই সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হলেও মামলার তদন্তের দায়িত্ব যথারীতি পুলিশের কাছেই বহাল রাখা হয়েছে।

‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের পুরোনো আইন রহিত করে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার সমন্বয়ে নতুন স্বাধীন কাঠামো গঠিত হবে। নতুন বিধানে কমিশনে অন্তত একজন নারী এবং জাতীয় সংখ্যালঘু বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কাজ করতে ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ ইউনিট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল আইন সংশোধন করে ১২২এ ও ১২২বি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে বাবা-মা বা অন্যান্য যোগ্য দাতারা তাঁদের নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি বা জীবনসঙ্গীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করার পরও জীবদ্দশায় তা ব্যবহার ও ভোগ করার আইনি অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে পারবেন। এই বিধানটি সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশের আইনগত কার্যকারিতা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ২৭ আগস্ট এই বিল তিনটি সংসদে তোলা হয়। পরবর্তীতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ ও প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে অবশেষে তা সংসদে চূড়ান্তভাবে পাস হলো।