অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চক্ষু চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নের তাগিদ সমাজকল্যাণমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, চক্ষুজনিত রোগে আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা গেলে এই ধরনের বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ আরও সহজতর হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজি’র বার্ষিক সায়েন্টিফিক সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিকিৎসকদের বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে হবে। দেশে উন্নত সেবা সুনিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক রোগীর বিদেশ গমনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
জাতীয় প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আগামী ৫০ বছর সেবা দেওয়া যাবে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সরকারকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার পাশাপাশি জনকল্যাণে মরণোত্তর চক্ষু ও অঙ্গদানের মহৎ উদ্যোগে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, দেশের প্রায় ৫ শতাংশ শিশু জন্মগতভাবে চক্ষুজনিত সমস্যা নিয়ে জন্মায়, যার বড় অংশই সঠিক চিকিৎসায় প্রতিরোধযোগ্য। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা। দিনব্যাপী এই সায়েন্টিফিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ৩৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করছেন।
বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন (নিউটন)। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. জানে আলম মৃধা।