সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও তাঁর স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তাঁর স্ত্রী আফরিন তাপসের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দুটি পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (৩০ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও তাঁর স্ত্রী আফরিন তাপসের আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন এবং আদালত আবেদনগুলো মঞ্জুর করেন।
দুদকের আবেদনে মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া, তাঁর নামে ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা এবং ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দুদক বলছে, অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাপসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আফরিন তাপসের নথি চেয়ে করা আবেদনে দুদক উল্লেখ করে, তিনি পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি, ৯টি ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। দুদক তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি শেখ ফজলে নূর তাপস ও আফরিন তাপসের নামে এ পর্যন্ত দাখিল করা সব আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন বলে দুদকের পক্ষ থেকে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই নথি জব্দের আদেশের মাধ্যমে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এক ধাপ এগোল।