আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে জিয়াউর রহমানকে আদর্শ মানার কথা জানালেন রেজা কিবরিয়া

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দলটিতে যোগদান করেন। তিনি গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন এবং গত মাসের শুরুর দিকেই তাঁর বিএনপিতে যোগদানের খবর সামনে আসে।
বিএনপিতে যোগ দিতে পেরে তিনি তাঁর গর্ববোধের কথা প্রকাশ করেন। নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে রেজা কিবরিয়া বলেন, বিএনপি দুবার ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের হাত থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে—একবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আরেকবার বেগম খালেদা জিয়া। তিনি উল্লেখ করেন, এটি বিএনপির একটি ঐতিহাসিক ভূমিকা, যার উদাহরণ অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। এসব কারণে তিনি বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন এবং জিয়াউর রহমানকে তাঁর আদর্শ হিসেবে মানেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিএনপির নেতৃত্ব দেশের নতুন প্রজন্মের সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে এবং এখন বিএনপির আগের ভিশন নেই, অনেক কিছু বদলে গেছে।
এই যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত যে রেজা কিবরিয়া আজ তাঁদের মাঝে এসে তাঁদের দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে রেজা কিবরিয়াকে দলে স্বাগত জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য মেধাবী নেতৃত্ব ও প্রতিভাবান মানুষের প্রয়োজন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রেজা কিবরিয়ার বিএনপির পতাকাতলে আসাকে তাঁর দল স্বাগত জানাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি যে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে, সেখানে হবিগঞ্জ-১ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেজা কিবরিয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে একই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। এর আগে তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন এবং পরে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদ গঠন করে প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উভয় দলই তাঁকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।