↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৭ পি.এম

‘ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে, এর কোনো বিকল্প নেই’: তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জাতীয় নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধানের শীষকে জেতানোর মাধ্যমে জনগণের পক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে যুবদল ও কৃষক দলের নেতারা অংশ নেন।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “ধানের শীষকে জিতাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জিতানোর মাধ্যমে জনগণের যে পরিকল্পনা, জনগণের পক্ষের যে পরিকল্পনা—তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ধানের শীষকে জিতানোর মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। নো কম্প্রোমাইজ।

তিনি নেতাকর্মীদের যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন:

“এখন বসে থাকার সময় নেই। আপনাকে যুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। যুদ্ধ কী? মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে। এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আমাদের।”

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করেন, বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল এরকম ‘স্ট্রেইটকাট প্ল্যানিং’ দেশের মানুষকে দিতে পারেনি। তিনি বলেন, বহু পরিকল্পনা হয়েছে, যা কেবল পরিকল্পনাতেই রয়ে গেছে, কিন্তু বিএনপি এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে চায়।

তিনি বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেমন আন্দোলন করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই প্ল্যানিং বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ কাজটা শুরু করব, পরবর্তী জেনারেশন সেটা কনটিনিউ করবে।”

তারেক রহমান দলের পরিকল্পনা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এবং তাদের ‘কনভিন্স’ করার নির্দেশনা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি সজাগ না হই, যদি এই যুদ্ধে মাঠে নেমে না পড়ি, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।”

তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশকে প্রত্যেকবার শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া রক্ষা করেছেন এবং এখন সেই দায়িত্ব নেতাকর্মীদের কাঁধে এসে পড়েছে। তিনি আহ্বান জানান, “প্রত্যেককে উঠে দাঁড়াতে হবে। ঘর থেকে বেরিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে, দোরগোড়ায় যেতে হবে। তাহলেই আমাদের পক্ষে সম্ভব। আসুন এই যুদ্ধ আমরা শুরু করি।”

তিনি যুবদল ও কৃষক দলের নেতাদের সামনে দলের অগ্রাধিকার পরিকল্পনাগুলোর রূপরেখা তুলে ধরেন:

  • অর্থনীতি ও দুর্নীতি: “আমরা কোনো মেগা প্রজেক্টে যাব না, এতে দুর্নীতি হয়। আমরা টাকা খরচ করব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে।”
  • নারী ও কর্মসংস্থান: নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই হবে নারী।
  • শিক্ষা: শিক্ষার্থীরা যেন ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায়ও দক্ষ হতে পারে, এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
  • কৃষি ও স্বাস্থ্য: কৃষি রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখনই কাজ শুরু করার কথা বলেন তিনি।
  • ক্রীড়া ও নগর পরিকল্পনা: শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ক্রীড়া—এই তিন মন্ত্রণালয় সারা বছর একসঙ্গে কাজ করবে। দম বন্ধ করা শহরে খেলার মাঠ নেই। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে বাজার দরে জায়গা কিনে খেলার মাঠ তৈরি করে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।