↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৩৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:৩৪ এ.এম

‘নির্বাচনি যুদ্ধ’ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘নির্বাচনি যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দলের নেতাকর্মীদের একযোগে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই আহ্বান জানান।

সারা দেশ থেকে আসা দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, দলের কর্মীরা পরীক্ষিত। শত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও তারা ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে গত স্বৈরাচারের ১৫ বছরের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “তাহলে এখন কেন সামনের যেই নির্বাচনি যুদ্ধ, তা মোকাবিলা করতে পারবেন না?” তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের কাছে দেশকে ঘিরে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরার নির্দেশ দেন এবং বলেন, চাইলেই এটি করা সম্ভব।

তারেক রহমান ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নেতাকর্মীদের নিজের নিজের এলাকায় কষ্ট করতে হবে দলের পরিকল্পনা সফল করার জন্য। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীদের সামনে থাকবে ধানের শীষ, কোনো ব্যক্তি নয়। ধানের শীষকে বের করে এনে এর পক্ষে জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে ব্যালট বক্সের ভিতরে নিয়ে আসার নির্দেশনা দেন তিনি। তিনি বলেন, শুধু মিটিং করে বললে হবে না, ছোট ছোট গ্রুপ করে ঘরে ঘরে যেতে হবে—কৃষকের ক্ষেতে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিমের কাছে, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং মা-বোনদের কাছে যেতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সতর্ক করেন যে, তাদের পরিকল্পনাগুলো জনগণের কাছে না পৌঁছালে আরেকজন গিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, কর্মীরা মাঠে হাজির হলে এই বিভ্রান্তি বন্ধ হবে এবং বিভ্রান্তিকারীও পিছু হটতে বাধ্য হবে। তারেক রহমান মন্তব্য করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যত সহজ ভাবা হচ্ছে, নির্বাচন তত সহজ হবে না। তিনি মনে করেন, এখনো যদি সিরিয়াস না হওয়া হয়, তবে দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে, যা একমাত্র গণতন্ত্রই বাঁচাতে পারে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছে না, তারা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের বেশি সময় নেই, তাই দল যার হাতে ধানের শীষ দিয়েছে, তাদের পক্ষে থাকতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রার্থী আসবে, প্রার্থী পরিবর্তন হবে, কিন্তু দল ও আদর্শ রয়ে যাবে। তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় সরকার হবে না এবং যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে, তাদের পাশাপাশি যারা ভোট দেয়নি তাদের জন্যও কাজ করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, খুব শিগগিরই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “আমাদের নেতা যেদিন আসবেন, যেদিন বাংলাদেশে পা দেবেন-সেদিন যেন সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে ওঠে।” মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, এখন সংগ্রাম ও লড়াই হচ্ছে এই নির্বাচনে জয়লাভ করার সংগ্রাম, যাতে করে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তিনি কর্মীদের সব বাধা ও বিপত্তি কাটিয়ে উঠে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, বিএনপি কোনোদিনই পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবে না।

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। এ সময় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম খান বাবুল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।