↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৩৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:১৮ পি.এম

হাদি হামলাকারীদের দেশত্যাগ ঠেকাতে আখাউড়া সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর হামলাকারীরা যেন কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কঠোর নির্দেশের পর সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টসহ পূর্বাঞ্চল সীমান্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় তল্লাশি অভিযান ও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

শুক্রবার দুপুরে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে, ওই দিন রাতেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হামলাকারীদের দেশত্যাগ রোধে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণে কঠোর নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, সীমান্তে এখনই সর্বোচ্চ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।” হাদির ওপর এই হামলাকে তিনি ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দায়ীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ওই বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীসহ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশের পর শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে বিজিবি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ঢাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় জড়িত কোনো সন্ত্রাসী যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অপরিচিত লোকসমাগম এবং যানবাহনগুলো তল্লাশির মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করার কার্যক্রম চলছে।

এদিকে, আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ইনচার্জ ওসি আব্দুস সাত্তার জানান, গত বছর ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে সতর্কতার সঙ্গে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাচাই-বাছাই করে পারাপার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পথে কোনো অপরাধীই যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সে ব্যাপারে ইমিগ্রেশন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন প্রার্থীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।