↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৫:০২ এ.এম

গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে, মূল অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেফতার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তির নাম মো. কবির। এদিকে, গত শুক্রবার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সোমবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, আগের দিন রাতে নারায়গঞ্জ থেকে কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর আজ (সোমবার) তাকে পল্টন থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কবির ও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম উভয়ের গ্রামের বাড়িই পটুয়াখালী জেলার সদর থানার বড় বিঘাই গ্রামে।

র‌্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কবির গত ৫ ডিসেম্বর ফয়সাল করিমের সঙ্গে বাংলামোটরে হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে গিয়েছিলেন। প্রথমে তিনি এই তথ্য অস্বীকার করলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানোর পর ফয়সাল করিমের সঙ্গে সেখানে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

হাদিকে গুলির ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ; যাদের মধ্যে চারজন বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। এর আগে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে প্রথম আটক করে র‌্যাব , পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া, র‌্যাব ফয়সাল করিম মাসুদের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু ও ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে গ্রেফতার করেছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারির মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে আরও দুইজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করা শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ীর গুলিতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রাতেই তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ বলে জানানোর পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনা বিরাজ করছে।