↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৬ এ.এম

সুদীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: দেশের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তুলে ধরলেন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ নিজস্ব পরিকল্পনা।

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে এটিই ছিল লন্ডনে তাঁর শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি বলে জানান তিনি।

আলোচনা সভায় জনাব তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক ও সুসংগঠিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ‘ক্রেডিট স্কোর’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পেতে পারবেন। পাশাপাশি ফসলের ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে পোর্টেবল কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওয়ার্ক প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে পরিবর্তনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দেশের সাড়ে তিন লাখ প্রাথমিক শিক্ষককে ডিজিটাল ট্যাবলয়েড প্রদান ও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘ওয়ান ট্যাপ–ওয়ান টিচার’ মডেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন, যাতে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা আরও দক্ষ হয়ে উচ্চ বেতনের সুযোগ পান। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান ‘প্রিভেনশন’ বা রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সারা দেশে এক লাখ হেলথকেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি ব্যয়ে ডায়ালাইসিসের মতো জরুরি সেবা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি গেটওয়ে ও পেমেন্ট সিস্টেম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া দেশের সায়েন্স পার্কগুলোতে ফ্রি ওয়াইফাই ও ওয়ার্কস্পেস তৈরি করে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সামনের সময় সহজ হবে না এবং নানা ধরনের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে কোনো ধরনের ভিড় বা হট্টগোল না করার অনুরোধ জানান তারেক রহমান। তাঁর মতে, শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে এতে দেশ ও দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকেও দলের নেতাকর্মী ও জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভিডিওটির তথ্যসূত্র: তারেক রহমানের ভাষণ