নির্বাচন বানচাল ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর রুখতেই ওসমান হাদিকে হত্যা: জুনায়েদ সাকি

দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যেই ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে প্রথম আলোর কার্যালয় পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ থামিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরে জুনায়েদ সাকি বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার পরপরই সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর ভবনে আক্রমণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলাগুলোকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এগুলো কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশবাসীর ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তাতে দেশের মানুষ শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। গতকাল জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে তার শাহাদাত জনগণকে ক্ষোভে ফুঁসিয়ে তুলেছে। সাকি আরও অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিস্টরা ভারতে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। একদল স্বার্থান্বেষী মহল মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা চালিয়ে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা হাজারও শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন চেয়েছি।” এই তিনটি বিষয়কে গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তবে চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ঐক্য বজায় রাখা এবং মানুষের জানমাল ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব থাকলেও সেখানে তারা ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নাশকতা ঠেকাতে বাহিনীর নীরবতা রহস্যজনক। উত্তেজিত মানুষকে ব্যবহার করে একদল স্বার্থান্বেষী মহল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পরিশেষে তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে ঐক্যে ফাটল ধরা যাবে না। অনৈক্য তৈরি হলে কেবল আততায়ী ও নাশকতাকারীরাই লাভবান হবে।